ফেসবুকে এমন কথা লিখবেন না, যাতে আমার পরিবার হতাশবোধ করে


‘আমার করোনা পজেটিভ। গতকাল আমি রেজাল্ট পেয়েছি। কিন্তু এই খবর জানার পর শুভাকাঙ্ক্ষীরা এমনভাবে পোস্ট দিচ্ছেন যাতে মনে হচ্ছে আমার বিশাল কিছু হয়ে গেছে, খুব গুরুতর কিছু। আর এইসব পোস্ট দেখে আমার মেয়েরা ভেঙে পড়ছে। আমি অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি কিছু লিখতেই চান তাহলে আমাকে আমাকে আমার পরিবারকে অনুপ্রেরণা দিয়ে লিখুন।

রবিবার দুপুরে কালের কণ্ঠের সাথে আলাপকালে কথাগুলো বলছিলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রখ্যাত কণ্ঠযোদ্ধা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। তিনি এখন কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন তিনি। দিব্য মোবাইলফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বললেন। জানালেন সব স্বাভাবিক। 

সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৬ মে রাতে। শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট হওয়ায় কলাবাগানের বাসা থেকে প্রথমে রাজধানীর দু’টি হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করা হয়, উপসর্গ থাকায় ভর্তি না করিয়ে হাসপাতাল দু’টি ফেরত দেয়। 

পরে স্বজনরা ওই রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে এক ঘণ্টা অক্সিজেন দিয়ে রাখার সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।  একরাত থেকে পরেরদিন দুপুরে করোনার নমুনা দিয়ে শিল্পীকে বাসায় নেওয়া হয়।

ফেসবুকের অনেক ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী না বুঝে কিংবা না অনুধাবন করে পোস্ট দিচ্ছেন এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভা পড়ছে উল্লেখ করে সুজেয় শ্যাম বললেন, ‘আমার মেয়েরা একটু হতাশ ও দুশ্চিন্তা বোধ করছে, করবেই বা না কেন ফেসবুকে আমাকে নিয়ে খুব শোকার্তভাবে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এসব পোস্ত দেখলে সবাই সহজভাবে নিতে পারে না। মানসিকভাবে দুর্বলতা বোধ করে। আমি লড়াই করার মানসিকতা রাখি। আমার পরিবার যাতে অনুপ্রেরণা পায় লিখলে এমন কিছুই লিখতে হবে। আমার কথায় কেউ কিছু মনে করবেন না প্লিজ।’

এর আগে ২৭ মে শিল্পীর মেয়ে রূপ মঞ্জুরী শ্যাম বলেন, ‘যেহেতু চিকিৎসকেরা সাসপেক্ট করছেন যে করোনা, সেহেতু  নমুনা নেওয়া হয়েছে বাবার শরীর থেকে। এরপর বোঝা যাবে আসলে তিনি কভিড ১৯ এ আক্রান্ত কি না। শনিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে করোনা পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়। এরপর কলাবাগানের বাড়ি থেকে তাঁকে ফের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

দেশের চলচ্চিত্রের গানে অসাধারণ অবদান রেখে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে এ পর্যন্ত ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন সুজেয় শ্যাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত তার সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’, ‘আজ রণ সাজে বাজিয়ে বিষাণ’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’, ‘ওরে আয়রে তোরা শোন’, ‘আয়রে চাষী মজুর কুলি’, ‘রক্ত চাই, রক্ত চাই’, ‘আহা ধন্য আমার’ উল্লেখযোগ্য।

সুজেয় শ্যাম ১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে সঙ্গীত পরিচালক রাজা হোসেনের সাথে পরিচিত হন এবং একত্রে রাজা-শ্যাম নামে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন।  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি ৩বার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।  

Share Button